ঢাকা , সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ , ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​বাতিল হচ্ছে গণভোট অধ্যাদেশ, বিল আকারে উঠবে না সংসদে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ৩০-০৩-২০২৬ ০৩:২১:০৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ৩০-০৩-২০২৬ ০৩:২১:০৫ অপরাহ্ন
​বাতিল হচ্ছে গণভোট অধ্যাদেশ, বিল আকারে উঠবে না সংসদে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ​ছবি: সংগৃহীত
সদ্য সমাপ্ত গণভোট যেই অধ্যাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেটির কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এই অধ্যাদেশ আর বিল আকারে সংসদে পাস করার কোনো প্রয়োজন নেই।

রোববার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।

রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে বৈঠকটি চলে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী। তৃতীয় দিনের বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষ করে কমিটি। ২ এপ্রিল কমিটি সংসদে প্রতিবেদন পেশ করবে।

গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোট আয়োজনের উদ্দেশ্য যেহেতু ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে, তাই ওই অধ্যাদেশের অধীনে আর কোনো গণভোট অনুষ্ঠিত হবে না। ফলে এটিকে আবার বিল আকারে এনে আইন করারও প্রয়োজন নেই।

তিনি আরও বলেন, একইভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা যেসব অপ্রয়োজনীয় অধ্যাদেশ রয়েছে, সেগুলোও বাতিল হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। সংসদ অধিবেশন বসার ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করতে হয়। কিন্তু, এই অধ্যাদেশের কাজ তো শেষ। এটি কোনো সংবিধানের অংশ ছিল না। আইন প্রণয়ন হয়েছিল একটি গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য, সেই অধ্যাদেশ ব্যবহারও শেষ হয়েছে।

বিশেষ কমিটির বৈঠক সম্পর্কে সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমরা ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রত্যেকটি নিয়ে আলোচনা করেছি। অনেকগুলো অধ্যাদেশ যেভাবে আছে সেভাবেই পাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিছু কিছু অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে বিল হিসেবে আনা হবে। তবে, হাতে সময় কম থাকায় (আগামী ১০ তারিখের মধ্যে) সবগুলোর বিল আনা সম্ভব হবে না। যেগুলো বাকি থাকবে, সেগুলো পরবর্তী সেশনে বিল আকারে নিয়ে আসা হবে।

কমিটির বৈঠকে বিরোধীদলীয় সদস্যদের সঙ্গে মতপার্থক্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য এবং সরকারি দলেরও কয়েকজন সদস্য কিছু কিছু অধ্যাদেশের বিষয়ে ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দিয়েছেন। রিপোর্টে তাদের বক্তব্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে। তবে, বিল যখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উত্থাপন করবেন, তখন ফার্স্ট, সেকেন্ড ও থার্ড রিডিংয়ের সময় সবাই যার যার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

নির্ধারিত ৩০ দিনের সময়সীমা পার হলে অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ৩০ দিনের মধ্যে যেসব বিল বা অধ্যাদেশ সংসদে আনা সম্ভব হবে না, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটোমেটিক) বাতিল হয়ে যাবে। এতে কোনো সমস্যা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশগুলো পরে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে আবার বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সীমানা নির্ধারণ বা আরপিও’র মতো বিষয়গুলোর ভবিষ্যৎ গুরুত্ব রয়েছে, তাই এগুলোকে অবশ্যই আইনে পরিণত করতে হবে।

মানবাধিকার কমিশন বা পুলিশ অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এগুলো আইন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য আইনমন্ত্রী দেবেন।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ